সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান চালাচ্ছে ৪ হাজার সদস্য নিয়ে
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪০
সন্ত্রাসী দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে ভোর থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো জেলায় প্রায় এক হাজার সদস্যের এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অস্ত্র মজুদ এবং অপরাধীদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, অভিযানের জন্য সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে, অন্য দল পাহাড়ি পথ ধরে ওপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগেই চৌকি বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অভিযান শুরুর খবর পেয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।
অভিযানে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরে রয়েছে একাধিক পাহাড়ি ছড়া, ঘন ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি। এসব জায়গা অনেক সময় অপরাধীরা আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার করে থাকে। ফলে বাহিনীর সদস্যরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পাহাড়ি পথ এতটাই সরু যে একসঙ্গে কয়েকজনের বেশি চলাচল করা সম্ভব হয় না। এ কারণে ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, ভোর হওয়ার আগেই পাহাড়ের আশপাশে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান নেন। পরে ধীরে ধীরে তারা পাহাড়ের ভেতরের দিকে অগ্রসর হন এবং সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়।
জেলা পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরো জেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গল সলিমপুরের ভূপ্রকৃতি জটিল হওয়ায় এখানে অভিযান পরিচালনা সব সময়ই চ্যালেঞ্জের। পাহাড়ের ভেতরে অসংখ্য সরু পথ, গহিন ঝোপঝাড় ও ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বসতি থাকায় অপরাধীরা সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে যেতে পারে। তাই গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেলে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গেলে র্যাব–৭–এর চার সদস্যকে মারধর করা হয়। এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব নিহত হন।
এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই মামলার কয়েকজন আসামি পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করেছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর সেখানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ওই ঘটনার পর সন্ত্রাসী দমন ও অস্ত্র উদ্ধারে একাধিক অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে সোমবার ভোর থেকে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।
অভিযান শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।