পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষ করে রমনার বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি পয়েন্টে বসানো হচ্ছে ব্যারিকেড, থাকছে তল্লাশি চৌকি ও নজরদারি।
দুই দশক আগে রমনার বটমূলে ভয়াবহ বোমা হামলার স্মৃতি মাথায় রেখে এবারের আয়োজনকে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো হুমকি না থাকলেও কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।পুরো ঢাকা মহানগরীকে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করে মোতায়েন করা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল রুম।
নিরাপত্তা জোরদারে থাকছে ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ড্রোন নজরদারি এবং র্যাবের বিশেষ টহল। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলিকপ্টার ও মেডিক্যাল সহায়তা দল।
রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে থাকবে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি। মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ, ধারালো বস্তু ও দাহ্য পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া ফানুস, আতশবাজি ও শব্দদূষণকারী যন্ত্র ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকালেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বৈশাখী শোভাযাত্রা নির্ধারিত রুটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কে প্রবেশ বন্ধ এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোর থেকেই শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায় যান চলাচলে ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড বসানো হবে।
ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে মাঠে থাকবে বিশেষ টিম। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে সাইবার নজরদারি।
ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিক্যাল টিম ও নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তায় থাকবে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ কেন্দ্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বৈশাখ উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতা করতে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।