সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে, তবে খাদ্য সংকটের সতর্ক বার্তা
এস কে বাপ্পি, খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৮
সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে নানা বয়সের বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৮ সালের জরিপে এখানে ১১৪টি বাঘের পদচিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। ছয় বছর পর ২০২৪ সালের সর্বশেষ জরিপে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫-এ।
তবে একাধিক সমস্যা এখনও রয়েছে। প্রতি মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়ে হরিণ শিকারের কারণে বাঘের খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাঘের খাবারের ৮০ শতাংশ হরিণের মাংস থেকে আসে, বাকি ২০ শতাংশ আসে শূকর, বন বিড়াল ও বানর থেকে।
হরিণ শিকারের কারণে খাদ্য সংকট
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গহীন বনে পাতা ফাঁদ ও চেতনানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করে হরিণ শিকার করা হচ্ছে। ফলে চাঁদপাই, শরণখোলা, সাতক্ষীরা ও খুলনা রেঞ্জে বাঘের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য সংকটের কারণে বাঘরা নদী ও খাল পার হয়ে মানুষের বসতিপ্রান্তে আসছে। প্রতিটি বাঘের জন্য সপ্তাহে ৫০–৬০ কেজি মাংস প্রয়োজন।
২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, সুন্দরবনে চিত্রা হরিণের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৬শ’ ৪। গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবন (পূর্ব) বিভাগ ৬১ হাজার ৪শ’টি ফাঁদ উদ্ধার করেছে। সুন্দরবন (পশ্চিম) বিভাগ গত দু’বছরে ৩,১৪৮ ফুট ফাঁদ উদ্ধার করেছে। শিকারিদের কাছ থেকে দু’বছরে ১,১৪৮ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। ফাঁদ ও মাংস উদ্ধারের ঘটনায় ৭২টি মামলা হয়েছে এবং ১৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
সুন্দরবন (পূর্ব) বন বিভাগীয় কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, “পাথরঘাটা উপজেলার বিশ্বাসপাড়া, চরদুয়ানী, গ্যাংপাড়া, শরণখোলা এবং সুন্দরবন (পশ্চিম) বিভাগের কালাবগি ও বানিয়াখালিতে ফাঁদ বেশি উদ্ধার হয়েছে।”
খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, “চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জে বাঘের আনাগোনা বেশি। এ প্রাণীর ৮০ শতাংশ খাবার হরিণের মাংস থেকে আসে, বাকি ২০ শতাংশ শূকর, বনবিড়াল ও বানরের মাংস থেকে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও বাঘ বিশেষজ্ঞ এম এ আজিজ বলেছেন, “পাতা ফাঁদ বাঘের জন্য বড় হুমকি। টাইগার অ্যাকশান প্ল্যান (২০১৮–২০২৭) অনুযায়ী, অনেক বনজীবীর আয়ের দ্বিতীয় উৎস হরিণ শিকার। স্থানীয় বাজারে হরিণের মাংসের চাহিদা বাড়ায় অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় শিকার বেড়ে যায়। এ কারণে বাঘের জন্য পর্যাপ্ত হরিণ থাকছে না। ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘের অঙ্গহানিসহ মৃত্যু ঝুঁকিও বাড়ছে।”
চাঁদপাই রেঞ্জের শোর্কির খাল এলাকা থেকে ফাঁদে আটকা পড়া একটি আহত বাঘকে উদ্ধার করা হয়েছে। এটি বর্তমানে খুলনায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।