কেন নির্যাতনের টার্গেট হয় ভিপি নূর !

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৫, ১৯:১৬

ছবি: সংগৃহীত

                 

গণঅধিকার পরিষদের নেতা ভিপি নুরুল হক নূর বাংলাদেশে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের এক প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামল থেকে শুরু করে আজ অবধি তিনি ধারাবাহিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কখনো ছাত্রলীগের হামলা, কখনো পুলিশের লাঠিচার্জ কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে সেনা সদস্যদের আঘাত প্রতিবারই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

গত রাতেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যখন তিনি রক্তাক্ত দেহ নিয়ে শয্যায় নিদ্রা গিয়েছেন। যেন তার রাজনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্যাতন। ভিপি নূরের এই পরিস্থিতি শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত দুঃখগাঁথা নয়, বরং গোটা জাতির গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন।

স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে সবার আগে প্রয়োজন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। একজন মূলধারার জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা যখন ধারাবাহিকভাবে দমন-পীড়নের শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলে এবং রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথ সংকীর্ণ করে দেয়।

গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা। কিন্তু বারবার দমননীতি প্রয়োগ প্রমাণ করে, শাসকগোষ্ঠী ভিন্নমতকে ভয় পায়। তাই রাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে চায়, তবে তাকে নিশ্চিত করতে হবে রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা। নইলে গণতন্ত্র কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top