রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, আরও কয়েকদিন থাকতে পারে: তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৬.৮ ডিগ্রি

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ ভাগে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যেখানে দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে, শুক্রবার তা কিছুটা কমে ২০ জেলায় সীমিত থাকলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়—৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার নওগাঁর বদলগাছীতে রেকর্ড করা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসই চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা ও পাবনায় ৮ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামে ৯, সিরাজগঞ্জে ৯ দশমিক ১, নীলফামারী ও রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৪, যশোরে ৯ দশমিক ৫, রংপুরে ৯ দশমিক ৬, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৮ এবং বগুড়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার পাশাপাশি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই দুই বিভাগে মোট ১৬টি জেলা রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে দেশের ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে। শনিবার ও রোববার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন চলতে পারে। আগামী দুদিন পর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও পরে আবার কমতে পারে। এতে নতুন নতুন জেলা শৈত্যপ্রবাহের আওতায় আসতে পারে, আবার কিছু জেলা বাদও পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, শ্রীলঙ্কার উপকূলে অবস্থানরত একটি নিম্নচাপের কারণে বায়ুতে কিছুটা উষ্ণতা ছড়িয়েছে, ফলে কয়েকটি অঞ্চলে কুয়াশা সাময়িকভাবে কমেছে। তবে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এখনও কুয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ভোরে কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের।

বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমজুর মতিয়ার বলেন,
“এত শীতে কাজ করা খুব কষ্টের। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলে না।”

কলেজপাড়া এলাকার ভ্যানচালক ময়নুল বলেন,
“ভোরে বের হলে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যাত্রীও খুব কম পাওয়া যায়।”

পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার বাসিন্দা রমজান জানান,
“এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে আছে, বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।”

নয়াদীঘি এলাকার বাসিন্দা নুরনবী বলেন,
“ঘরে কম্বল থাকলেও তাতে শীত নিবারণ হচ্ছে না।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top