পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী ভোট
প্রথমবার প্রবাসীদের ভোটাধিকার, পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন ১৫ লাখ ছাড়াল
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৫
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তারা ভোট দেবেন। তাদের পাশাপাশি ভোটের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও একই পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যে এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখের বেশি ভোটার। পাঁচ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন—এমন আসনের সংখ্যা শতাধিক। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ফলাফল নির্ধারণে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, অতীতে পোস্টাল ব্যালট থাকলেও তা কার্যত অকার্যকর ছিল। ফলে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, ভোটের কাজে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ও সরকার এই সমস্যার সমাধানে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলেই প্রথমবারের মতো ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন।
আগের অকার্যকর পোস্টাল ব্যালটকে কার্যকর করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও এমআইএসটির বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালু করে নির্বাচন কমিশন।
এই পদ্ধতিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে ইচ্ছুক ভোটাররা প্রথমে নিবন্ধন করেন। এরপর নির্ধারিত ঠিকানায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানো হয়। ভোট প্রদান শেষে ব্যালট আবার ডাকযোগে দেশে ফেরত পাঠাতে হয়। আংশিকভাবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার হওয়ায় একে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ভোটিং সিস্টেম বলা হচ্ছে।
ইসি তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী ও কয়েদি—দেশের ভেতর থেকে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন। বাকিরা প্রবাসী ভোটার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক কর্মকর্তা জানান, অতীতে অনেক আসনে এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোট ফল পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে না। যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান ওই আসনের মোট পোস্টাল ব্যালটের চেয়ে কম হবে, কেবল সেসব আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে। অন্যথায় তা গণনায় আসবে না।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো আসনে এক প্রার্থী ৮০ ভোট এবং অন্য প্রার্থী ৪০ ভোট পেলে ব্যবধান হয় ৪০ ভোট। ওই আসনে পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা যদি ৪০-এর বেশি হয়, তাহলে তা গণনা করা হবে। কম হলে গণনা করা হবে না।
পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে—১৬ হাজার ৯৩ জন। এরপর চট্টগ্রাম-১৫ (১৪,৩০১), কুমিল্লা-১০ (১৩,৯৭৭), নোয়াখালী-১ (১৩,৬৫৮), নোয়াখালী-৩ (১২,৮২৯), ফেনী-২ (১২,৭৯৭), কুমিল্লা-১ (১২,৫৮৩), সিলেট-১ (১২,৪৫৮), কুমিল্লা-৫ (১২,৩৭৩), কুমিল্লা-৬ (১১,৯৪৩) এবং চাঁদপুর-৫ (১১,৮৫২) আসন রয়েছে শীর্ষে।
১০ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন—এমন আসন রয়েছে চারটি। নয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে নয়টি আসনে। আট হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ১০টি আসনে। সাত হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ১১টি আসনে। ছয় হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ২১টি আসনে।
পাঁচ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে ৪৬টি আসনে। পাঁচ হাজারের নিচে কিন্তু এক হাজার ৫০০-এর বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন—এমন আসনের সংখ্যা ১৭৬টি। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট-৩ আসনে—১ হাজার ৫৯৫ জন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন।
ভুল ঠিকানার কারণে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে, যার বেশির ভাগই মালয়েশিয়া থেকে।
তিনি বলেন, ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনিয়ম করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
দেশের ভেতরের ভোটারদের জন্য ব্যালট এখনো পাঠানো হয়নি। ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ব্যালট ছাপানো ও বিতরণ শুরু হবে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি নেবে কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।