বৃহঃস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

তাবিনাজের চোখে নতুন তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ যুগান্তকারী পদক্ষেপ

ড. বিভূতি ভূষণ মিত্র | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৩

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

সম্প্রতি তামাকবিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ) ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-কে সাহসী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তাবিনাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন অধ্যাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো হলো:

  • সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে তামাক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • তামাকজাত পণ্যের সরাসরি ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন, প্রদর্শনী নিষিদ্ধ।

  • পণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৭৫ শতাংশে বৃদ্ধি।

  • নতুন নিকোটিন পাউচসহ ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট আইনের আওতায় আনা।

তাবিনাজ মনে করে, এভাবে তরুণ প্রজন্মকে তামাকের নেশা থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।

ই-সিগারেট: বিকল্প নয়, ঝুঁকি বেশি

তবে জনসাধারণের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে ই-সিগারেট বা ভ্যাপ সিগারেটের বিকল্প এবং ধূমপান ত্যাগে সহায়ক। বাস্তবে, ই-সিগারেটও আসক্তি বাড়ায় এবং স্বাস্থ্যহানিকর, বিশেষ করে ফুসফুস, হৃদয় ও মস্তিষ্কের জন্য।

ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর মতে, ই-সিগারেট থেকে বের হওয়া হানিকর অ্যারোসল ফুসফুসে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এছাড়া হিটিং এলিমেন্টে থাকা তরল অ্যারোসলে রূপান্তরিত হয়ে ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ায়।

অধ্যাদেশের মূলধারা

  • পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • জরিমানা সর্বাধিক ২ হাজার টাকা, যা আগের ৩০০ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।

  • ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকজাত পণ্য বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে বিক্রি নিষিদ্ধ।

  • ই-সিগারেট ও অন্যান্য আধুনিক নিকোটিনজাত পণ্যের আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয় ও ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।

  • আইন লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

বাস্তব চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, স্কুল-কলেজের আশপাশে ভ্যাপের সহজলভ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আইন বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে।

তাই সরকার এবং সমাজকে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। এছাড়া, নেশা মফস্বল এলাকায়ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

নতুন অধ্যাদেশের সঙ্গে দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তন আসছে। এখন প্রশ্ন হলো, আইনটি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও নেশা থেকে রক্ষা করা যাবে কি না।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top