এক সালামে ৪ রাকাত তারাবি পড়া যাবে? যা বলছে ইসলাম
ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬
রমজানে তারাবি নামাজ আদায় নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে প্রায়ই একটি প্রশ্ন দেখা যায়- এক সালামে চার রাকাত তারাবি পড়া যাবে কি না? এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী, তা জানা জরুরি।
রমজান মাসে এশার চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতরের আগে সাধারণত দুই রাকাত করে ১০ সালামে মোট ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, যা ‘তারাবি নামাজ’ নামে পরিচিত। তারাবির সময় এশার নামাজের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত।
ইসলামি শরিয়তে তারাবি নামাজকে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলা হয়েছে। যথাযথ কারণ ছাড়া তা পরিত্যাগ করা গুনাহের কাজ। পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতে তারাবি আদায় করা সুন্নত। নারীদের জন্যও ২০ রাকাত তারাবি আদায় সুন্নত হিসেবে গণ্য।
হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী মুহাম্মদ (সা.) রমজানে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন এবং সাহাবিদেরও উৎসাহিত করেছেন। তবে তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি নিয়মিত জামাতে অংশ নেননি। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবি) আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সুনান নাসায়ি)
ফিকহবিদদের মতে, তারাবি নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করাই উত্তম ও সুন্নতসম্মত পদ্ধতি। প্রতি দুই রাকাত শেষে বৈঠক ও সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়। এরপর নতুন নিয়তে আবার দুই রাকাত শুরু করা হয়।
তবে কেউ যদি এক সালামে চার রাকাত আদায় করেন, তাহলে তার নামাজ সহিহ হবে- শর্ত হলো দ্বিতীয় রাকাত শেষে তাশাহহুদ পরিমাণ সময় বসতে হবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়মিত চার রাকাত একসঙ্গে পড়া উত্তম নয়; অধিকাংশ আলেমের মতে তা মাকরূহ।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, রমজান মাস ইবাদতের জন্য বিশেষ বরকতময়। এ মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি রমজানে একটি নফল আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল; আর যে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি নফল আদায় করল।” (মিশকাত)
সুতরাং ফজিলতপূর্ণ এ মাসে সুন্নত পদ্ধতিতে তারাবি নামাজ আদায় করাই উত্তম। তবে কোনো কারণে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে—এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তে সুযোগ রয়েছে বলে আলেমরা জানিয়েছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।