সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

মিসর গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬:৫৩

ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মিসর কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বিষয়টি বার্তা সংস্থা এএফপিকে একটি ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি গত আগস্ট মাসে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোস্তফার সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার জন্য মোট ৫ হাজার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রথম দফায় ৫০০ জনের বেশি সদস্যকে গত মার্চে কায়রোতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে আরও শত শত নতুন সদস্য যোগ দিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা গাজা উপত্যকার বাসিন্দা হবেন এবং তাদের বেতন প্রদান করবে পশ্চিম তীর-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা যুদ্ধ ও আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান চাই। আমাদের দেশের জন্য সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই বাহিনী হবে স্বাধীন এবং শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের প্রতি অনুগত।”

প্রশিক্ষণে সীমান্ত নজরদারি, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং ২০২৩ সালের হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর বৈধ ভূমিকা ও একটি সম্পূর্ণ সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

গত বছরের মিসরের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় হামাস, ফাতাহ ও অন্যান্য প্রধান ফিলিস্তিনি গ্রুপ প্রায় ১০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বাহিনী গঠনে সম্মত হয়েছিল। মিসর অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেবে, বাকি ৫ হাজার আসবে গাজার বিদ্যমান পুলিশ বাহিনী থেকে।

হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার প্রশাসন ত্যাগ করতে চায়, তবে ফিলিস্তিনি রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক। অস্ত্রের অংশবিশেষ সমর্পণের বিষয়টিও তারা শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে করতে রাজি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও পশ্চিম তীরের প্রকল্পের অনুরূপভাবে গাজায় ৩ হাজার পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এখনও গাজায় হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সমর্থন করছে না।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top