শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সুপ্রিম কোর্টকে পাত্তা দিচ্ছেন না ট্রাম্প, নতুন ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই রায় কার্যত অগ্রাহ্য করেছেন। আদালতকে ‘কলঙ্ক’ ও ‘বিদেশি স্বার্থে প্রভাবিত’ বলে আক্রমণ করে বিকল্প আইনি পথ ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ব্যবধানে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত রায়ে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (IEEPA)’ ব্যবহার করে এভাবে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করা যায় না।

এই রায়ের পর ট্রাম্প উদারপন্থি বিচারপতিদের ‘দেশের কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দেন। পাশাপাশি তার পক্ষে না থাকা রক্ষণশীল বিচারপতিদের সংবিধানের প্রতি ‘অদেশপ্রেমিক’ ও ‘অনুগত নয়’ বলেও কটাক্ষ করেন।

ট্রাম্প বলেন,

“শুল্ক আরোপের অধিকার আমার আছে এবং সবসময়ই ছিল।”

সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ট্রাম্প এবার ১৯৬২ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন। এই আইনের আওতায় তিনি নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়,

  • আগামী তিন দিনের মধ্যেই শুল্ক কার্যকর হবে

  • এটি ১৫০ দিনের জন্য প্রযোজ্য থাকবে

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে আরও স্থায়ী বা উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ২০২৬ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জানায়, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে কার্যকর শুল্কহার ১২.৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াবে।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-র সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা বলেন,

“এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা। এখন ইচ্ছেমতো দ্রুত শুল্ক কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে।”

গত এক বছরে ট্রাম্প শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য নয়, বরং পররাষ্ট্রনীতির চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও শুল্ক ব্যবহার করেছেন। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আইনি পথে শুল্ক ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপের দিকেও ঝুঁকতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top