খামেনি ও তার ছেলেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৯
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যদি স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধের নিশ্চয়তা না দেয়, তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার ছেলে মোজতাবা খামেনি–সহ ধর্মীয় নেতৃত্বকে অপসারণের মতো বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কাছে একাধিক কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ইরানের ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ আছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জানান, প্রেসিডেন্ট এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে। অন্য একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প এমন সমঝোতা চান যা রাজনৈতিকভাবে সফল হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তবে ইরান গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দিলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে।
অন্যদিকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরান যদি স্থায়ীভাবে অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরাইল মনে করছে, সমঝোতার চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনা বেশি। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ করেছে। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন দেননি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আলোচনায় উভয় পক্ষ কিছু মৌলিক নীতিতে একমত হয়েছে এবং তেহরান শিগগিরই লিখিত প্রস্তাব দেবে। তিনি বলেন, জেনেভা বৈঠকে পুরো পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের শর্ত সরাসরি উত্থাপিত হয়নি।
আলাদা আলোচনায় ইরানের কার্যক্রম কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রক্রিয়ায় রাফায়েল গ্রোসি-ও যুক্ত আছেন। প্রস্তাবের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমঝোতার পথে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রস্তাব হতে হবে সুস্পষ্ট ও বিশদ, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় তাদের কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়। লিখিত প্রস্তাব হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।