ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওসি-এসআইকে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করালেন জনতা
রাজশাহী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৫
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক থানার ওসি ও এক এসআইকে প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদমূলক শাস্তি দেন। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায়।
জানা যায়, একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর পুলিশি ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক বাসটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে এবং ঘুষ গ্রহণ করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে রাজশাহীর দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘রাজকীয় পরিবহন’ নামের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন, যাদের একজন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অটোরিকশার আরও কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর বেলপুকুরিয়া ও পুঠিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও এলাকা কার আওতাভুক্ত—এ নিয়ে দুই থানার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় পুলিশ নিহতদের মরদেহের দায়িত্ব নিতেও গড়িমসি করে। পুলিশের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বেলপুকুরিয়া থানার ওসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ঘুষ গ্রহণ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে ওসি ও এক এসআইকে মহাসড়কের ওপর কান ধরে উঠবস করানো হয়। ঘটনার পরপরই পোল্লাপুকুর এলাকায় ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েক হাজার মানুষ।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। পরিস্থিতি সামাল দিতে মতিহার জোনের উপকমিশনার (ডিসি)সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
এনএফ৭১/এমএ
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।