তোপের মুখে এ আর রহমান: তাকে খারিজ করার আগে পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনুন
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৮
অস্কারজয়ী সুরকার ও সংগীতশিল্পী এ আর রহমানের একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপিপন্থী একটি অংশ এই সংগীতজ্ঞকে লক্ষ্য করে তোপ দাগাচ্ছেন। তবে প্রশ্ন হলো—আদতে কী বলেছেন এ আর রহমান, আর কেনই বা এই বিতর্ক?
বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান অভিযোগ করেন, গত আট বছরে তিনি বহু কাজ হারিয়েছেন। এর পেছনে বলিউডের ভেতরে বিদ্যমান কুসংস্কার ও ধর্মীয় বিভাজনকে দায়ী করেন তিনি। রহমান বলেন,
“গত আট বছরে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে এসব ঘটছে। কারণ, ক্ষমতা এখন এমন কিছু মানুষের হাতে, যারা সৃজনশীল নন। আবার ধর্মীয় বিভাজনও এর একটি কারণ হতে পারে। তবে এগুলো কেউ সরাসরি আমার মুখের ওপর বলেনি।”
কারও নাম উল্লেখ না করলেও তার বক্তব্যে বিজেপির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিজেপি-ঘেঁষা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ।
গালফ নিউজে মঞ্জুষা রাধাকৃষ্ণানের কলাম
এই প্রেক্ষাপটে গালফ নিউজের এন্টারটেইনমেন্ট, লাইফস্টাইল ও স্পোর্টস এডিটর মঞ্জুষা রাধাকৃষ্ণান একটি বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য কলাম লিখেছেন। সেখানে তিনি এ আর রহমানকে কাছ থেকে চেনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
মঞ্জুষা লেখেন,
“আমার ১৯ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আমি অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক ও ভারতের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক দূত এ আর রহমানের একাধিক সাক্ষাৎকার নিয়েছি। যদি নিশ্চিতভাবে একটি কথা বলা যায়, তবে তা হলো—রহমান আমার দেখা সবচেয়ে পরিমিত ও সতর্ক শিল্পীদের একজন।”
তিনি আরও বলেন, রহমান অত্যন্ত চিন্তাশীল, সুনির্দিষ্ট এবং প্রতিটি শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রেও ভীষণ সচেতন। এমনকি ফটোগ্রাফির অ্যাঙ্গেল নিয়েও তিনি খুঁতখুঁতে।
‘পুরো সাক্ষাৎকার না শুনে সিদ্ধান্ত নয়’
মঞ্জুষার আবেদন ছিল স্পষ্ট—
“তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বা খণ্ডিত ক্ষোভ প্রকাশের আগে অনুরোধ করব—বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে হারুন রশিদের নেওয়া ৮৬ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের পুরো সাক্ষাৎকারটি শুনুন।”
তিনি জানান, হারুন রশিদ একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক এবং এটি কোনো ‘ফাঁদে ফেলার’ সাক্ষাৎকার ছিল না; বরং একটি প্রাণবন্ত ও গভীর কথোপকথন।
রহমান কী বোঝাতে চেয়েছেন
মঞ্জুষার মতে, রহমান মূলত বলিউডের সংগীত জগতের পরিবর্তন ও বর্তমান ক্ষমতাকাঠামো নিয়ে হতাশার কথা বলেছেন—যেখানে অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এমন মানুষ, যারা সংগীত বা এর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝেন না।
ধর্মীয় বৈষম্যের প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিলেও তা ছিল অত্যন্ত কূটনৈতিক এবং পরোক্ষ।
শিল্পের জয়গান হিসেবে ‘রামায়ণ’
কলামে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় রহমানের আসন্ন প্রজেক্ট ‘রামায়ণ’-এর কথা, যেখানে তিনি কাজ করছেন হলিউডের বিখ্যাত ইহুদি সুরকার হ্যান্স জিমারের সঙ্গে।
মঞ্জুষা লেখেন,
“একজন ইহুদি সুরকার ও একজন হিন্দু পরিবারে জন্ম নেওয়া, পরে ইসলাম গ্রহণ করা সংগীতশিল্পী একসাথে ভারতীয় পৌরাণিক মহাকাব্য ‘রামায়ণ’-এ কাজ করছেন—পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শিল্পের জয়গানের এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?”
শেষ কথা
মঞ্জুষার মতে, এ আর রহমান কোনো বিতর্ক উসকে দিতে চাননি। বরং তিনি সবসময় যেমনটি করেন, ঠিক তেমনভাবেই সতর্কতা, কূটনৈতিক বোধ এবং নিজের কাজের জগত সম্পর্কে গভীর সচেতনতা নিয়ে কথা বলেছেন।
তিনি লেখেন,
“সবকিছু প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দেখুন। পুরোটা শুনুন। শুধু ক্ষোভ প্রকাশের জন্য খণ্ডিত ক্ষোভ প্রকাশ করবেন না। আর মাঝেমধ্যে এই সচেতনতাই মানুষকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য যথেষ্ট।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।