বৃহঃস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কি ড. ইউনূস? ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জোর আলোচনা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুনভাবে জল্পনা সৃষ্টি করেছে ভারতীয় কিছু প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ, এইসময় অনলাইন ও আরও কয়েকটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নাম গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত থাকলেও তিনি পদত্যাগ করতে পারেন—এই গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা হিসেবে ইউনূসের নাম সামনে এসেছে।

ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক নতুন সরকারের জন্য কূটনৈতিকভাবে মূল্যবান হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ইউনূসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ‘জুলাই চার্টার’ অনুমোদনের ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে—যদি ইউনূস রাষ্ট্রপতি হন, তবে এটি নীতিগত ও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এটি সরকারপ্রধানের পাশাপাশি আরেকটি শক্তিশালী ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি করবে কি না।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে কেবল ইউনূসই নয়, বিএনপির ভেতর থেকে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নজরুল ইসলাম খানসহ একাধিক বর্ষীয়ান নেতার নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে। দলীয়ভাবে অনুগত কাউকে রাষ্ট্রপতি করলে সরকারের নীতিনির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হবে।

NDTV-কে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা বলেন, তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং দেশের স্বার্থে দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

সামাজিক মাধ্যমে ব্রিটিশ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক ডেভিড বার্গম্যান মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মনোযোগী একজন প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত একজন রাষ্ট্রপতির সমন্বয়।

যাইহোক, ইউনূসের নিজস্ব শিবির এই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছে। তাঁর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, ইউনূস রাজনীতি বা সাংবিধানিক পদে আগ্রহী নন, বরং ‘থ্রি জিরো’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমের দিকে মনোযোগী।

সব মিলিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ স্পষ্ট: মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রপতি হবেন কি না তা এখনও অনিশ্চিত। তবে ক্ষমতার পালাবদল, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে তাঁর নাম বঙ্গভবনের সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে—এটি আর অস্বীকার করা যায় না।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top