আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪১
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি—মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
একুশের ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ডিএমপির প্রায় ১৫ হাজার সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে র্যাব।
১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। সেই থেকেই দিনটি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে নামলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসেন।
ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়েই ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভের পর ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়, যা কার্যকর হয় একই বছরের ৮ মার্চ থেকে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘ-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।