শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৩

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে, বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে আজিমপুর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শহীদ মিনারের দিকে অগ্রসর হন। হাতে রক্তলাল পলাশ ও ডালিম ফুলের স্তবক নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’—গানের করুণ সুরে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে হাজার হাজার মানুষের পদচারণায় পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে কোলের শিশু, এমনকি হুইলচেয়ারে আসা বৃদ্ধরাও শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নেন।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একে একে তিন বাহিনীর প্রধান, বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের কর্মীদের স্লোগানে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবহ।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় শাহবাগ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

বিশেষ করে ‘জুলাই ঐক্য’ ও ‘জুলাই মঞ্চ’-এর ব্যানারে তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল এবারের একুশের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। বন্ধুসভার সদস্যরাও সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানান।

বর্ণমালা খচিত পোশাক আর হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে শিশুরা তাদের মা-বাবার হাত ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় শহীদ মিনারের দিকে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা—সবার মুখে একুশের চেতনা, চোখে ভাষা শহীদদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top