৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারকে আল্টিমেটাম, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪
৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৫ সালে ঘোষিত ৮ম পে-স্কেলের ফলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ওই সময় থেকে বৈষম্য নিরসনে আবেদন-নিবেদন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি পরবর্তী কোনো সরকারও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি বলে অভিযোগ করা হয়। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকারের আমলে ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে দুটি পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, গত ১১ বছর ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা আর্থিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। ফলে ছয় সদস্যের একটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও দাবি জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে একটি পে-কমিশন গঠন করা হয় এবং কমিশন তাদের প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়। তবে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত পে-স্কেল বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংগঠনের।
বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন পে-স্কেল না হওয়া এবং বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা জরুরি।
২০ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংগঠনটি নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—
১. ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন।
২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করবেন।
৩. পবিত্র রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।