প্রতি কিলোমিটারে খরচ ৩,৬১৮ কোটি টাকা
আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ব্যয় হবে নতুন দুই মেট্রোরেলে
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩
রাজধানীর নতুন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। উত্তরা–মতিঝিল মেট্রোরেল নির্মাণে যেখানে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছিল ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা, সেখানে নতুন দুটি প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই দুই প্রকল্পের মোট অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প দুটি হলো এমআরটি লাইন-১: কমলাপুর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত (৩১ কিলোমিটার) এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর): হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত (২০ কিলোমিটার)
ডিএমটিসিএলের (ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতা। ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা মূলত জাপানি কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা (JICA) ঋণের শর্ত অনুযায়ী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উত্তরা–মতিঝিল মেট্রোরেলের সম্প্রসারিত অংশ কমলাপুর পর্যন্ত হবে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদন পায়, তখন প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। তবে ঠিকাদারদের দর অনুযায়ী এই ব্যয় এখন বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটি ২০১৯ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পায়, প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
ডিএমটিসিএল জানায়, বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ভারতে মেট্রোরেল প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় মাত্র ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঠিকাদারদের অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব ও সীমিত দরপত্র প্রতিযোগিতার কারণে মিরপুর–কচুক্ষেত এবং কচুক্ষেত–ভাটারা অংশে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে দরপত্রে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতার অভাবই ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ। তাঁর মতে, নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে ঋণের শর্ত পরিবর্তন ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে মেট্রোরেলের পাশাপাশি ঢাকায় মনোরেল চালু করা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং ঋণের শর্ত সংশোধন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।