সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

চলতি মাসেই সরকারি বাসা ছাড়তে সাবেক উপদেষ্টাদের নির্দেশ, না হলে দিতে হবে ভাড়া

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩২

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের চলতি মাসের মধ্যেই সরকারি বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময়ের পর কেউ সরকারি বাসায় অবস্থান করলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে কেউ চাইলে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস অতিরিক্ত সময় নিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে মার্চ বা এপ্রিল মাসের জন্য ভাড়া দিতে হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসের জন্য ভাড়া নেওয়া হবে না।

এদিকে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছেড়ে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে। আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির পর সরকারি বাসায় থাকার জন্য সাবেক উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি।

আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও উপদেষ্টাদের জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা নেই এবং তারা পেনশন সুবিধাও পান না। বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে এক মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।

জানা গেছে, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় মোট ২৪টি বাংলো এবং ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলো সংস্কার ও রংচং করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের মধ্যে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মার্চের মধ্যেই নতুন বরাদ্দ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে পরিদপ্তরের।

বর্তমানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার ২১ জন বাসার জন্য আবেদন করেছেন। কোন বাসা কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আবেদনগুলো নবনিযুক্ত মন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং আবেদনকারীদের পছন্দের বাসভবন সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত দিতে বলা হয়েছে।

বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৪৯ জন। এছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী আছেন আরও ১০ জন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপসহ সরকারদলীয় চিফ হুইপ ও একাধিক হুইপও রয়েছেন। তবে বরাদ্দযোগ্য বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে মোট ৩৭টি। আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ব্যবহৃত হবে।

তালিকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর-এর নামও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবার জন্য সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না—এ প্রশ্নে আবাসন পরিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবাই সরকারি বাসা নাও চাইতে পারেন; ফলে বড় কোনো জটিলতা হবে না।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top