যমুনায় উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫৮
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-কেই সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নিয়েছেন। রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত এই ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা এবং সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্বাচিত করা হয়েছে।
বর্তমানে যমুনায় অবস্থান করছেন সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানিয়েছে, তিনি আগামীকাল ২৭ ফেব্রুয়ারি যমুনা ত্যাগ করবেন। এরপর কিছু সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে সেখানে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, “প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এ মাসেই বাসা ছাড়বেন। কিছু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ভবনে উঠবেন।”
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছিল। তবে সময় স্বল্পতা ও অন্যান্য কারণে ওই দুটি এলাকা আর বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে লক্ষ্যেই দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোতে বর্তমানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। অধ্যাপক ইউনূস যমুনা ছাড়ার পর এই দুটি বাংলো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছিল গণভবন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দিন গণভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে, ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের সুযোগ নেই।
নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সুপারিশ দিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গত বছরের ৭ জুলাই ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনের পর ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিটির প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলোকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই যমুনা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।