রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

মৃতরাই দেখা দিতে এলো জীবিত সাদ্দামের কাছে; এই নির্মমতার উত্তর কার কাছে?

মুঃ শামিউল বাশার (শ্যামল) | প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০

গ্রাফিক্স | নিউজফ্ল্যাশ সেভেন্টিওয়ান

আজকের এই আধুনিক যুগেও কি মৃতরা জীবিতদের সাথে দেখা করতে যায়? বাস্তবের নিষ্ঠুরতায় আজ তেমনই এক নিশংস আর হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ।

কারাগারে বন্দি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তান নাজিফকে একবার কোলে নিতে চেয়েছিলেন। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে চিঠিতে স্ত্রীকে লিখেছিলেন সেই আকুল আকুতির কথা। কিন্তু আইন আর রাজনৈতিক দেয়াল তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

কিন্তু অবশেষে সাদ্দামের সেই ইচ্ছা পূরণ হলো, তবে এক বীভৎস বাস্তবতায়!! স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী আর অবুঝ শিশু নাজিফের নিথর লাশ যখন জেল গেটে এসে পৌঁছাল, তখন সাদ্দামের হাতে ছিল হাতকড়া। ৫ মিনিটের জন্য নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে কোলে তুলে নিলেন তিনি, কিন্তু সেই সন্তান তখন আর বেঁচে নেই।

৫ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করা সেই হাসিখুশি সংসার আজ কবরের নিস্তব্ধতায় বিলীন। আমি আজ রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই— সাদ্দামের অপরাধ কি কেবলই ছাত্রলীগ? বা আওয়ামী লীগের কর্মী হওয়া? এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কি একজন বাবার শেষ দেখাটুকু পাওয়ার ন্যূনতম মানবিক অধিকারটুকুও রাষ্ট্র কেড়ে নিতে পারে? কেন মৃত মানুষদের দেখা দিতে আসতে হলো জীবিত মানুষের কাছে?

একবার কি কেউ ভেবে দেখেছেন, এই নির্মমতা কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে? যে সাদ্দাম তার সন্তানকে একবার সুস্থ অবস্থায় কোলে নিতে চেয়েছিল, আজ সে তাকে কোলে নিলো ঠিকই কিন্তু সন্তানের লাশ! আসলে আমাদের বোধশক্তি আজ লোপ পেয়েছে; আমরা এখন এক নির্বোধ জাতিতে পরিণত হয়েছি।

কারো কাছে এই নির্মমতার কোনো উত্তর নেই—না রাষ্ট্রের কাছে, না আইনের কাছে, না জনগণের কাছে। এই বিচারহীন নীরবতা আমাদের কোন গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে?


মুঃ শামিউল বাশার (শ্যামল)



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top