শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

তদন্তে প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশ

নোয়াখালী ডিপিএইচইতে ৫ কোটি টাকার পাইপ ১৯ লাখে বিক্রির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩১

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) সরকারি প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগকে ঘিরে জেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে এলে তিনি সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দিনভর নোয়াখালীতে অবস্থান করে এ তদন্ত পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপ ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বাজার মূল্য ও প্রকল্প মূল্য অনুযায়ী এসব পাইপের আনুমানিক দাম প্রায় ৫ কোটি টাকা, অথচ নথিতে মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন,
“বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ভালো হতো। সব কাগজপত্র ও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।”

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল।

এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম অনুমোদন দেওয়া হয়।

নিলামের কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস ত্যাগ করেন বলে জানান তারা।

ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার পাইপ, তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপ, মোট প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়।

যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অথচ এসব তথ্য গোপন রেখে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top