সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ:

সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩২

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে আজ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।

শুনানিতে মুনসুরুল হক দাবি করেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয়। এ কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদন করা হয়। তবে গত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। তাদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলে রাজধানীর মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন। অথচ নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশন আরও জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এ প্রেক্ষাপটে ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া হবে’—এমন বক্তব্য শোনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় এই ফোনালাপের অডিও রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানানো হয়।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন সকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top