সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

রিয়ালের সব চেষ্টা ভেস্তে দিয়ে সুপার কাপ জিতল বার্সা

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৯

সংগৃহীত

সৌদি আরবের জেদ্দায় উত্তাপ-উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ভরা এল ক্ল্যাসিকোতে শেষ হাসি হাসল এফসি বার্সেলোনা। ভাগ্যছোঁয়া এক ডিফ্লেক্টেড শটে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া রাফিনিয়ার গোলেই রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় কাতালানরা। তবে ফলাফলের বাইরেও ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, যিনি একাই বার্সার রক্ষণে বারবার ত্রাস ছড়ান।

ম্যাচের শুরুটা ছিল তুলনামূলক শান্ত। সৌদি আরবের গরম আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রথম ১৫ মিনিটে দুই দলই খেলেছে ধীরগতিতে, ঝুঁকি কম নিয়ে ছন্দ খোঁজার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। কিন্তু সেই স্থবিরতা ভাঙেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার গতি, শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের মিশেলে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করেন তিনি। তবে বার্সা গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া তখন সময়োচিত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন।

পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখলে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। মিডফিল্ডে পেদ্রি ও ডি ইয়ংয়ের নিয়ন্ত্রণে তারা খেলায় আধিপত্য দেখালেও আক্রমণে ছিল কিছুটা ধীরতা। তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল দূরপাল্লার শটে হুমকি তৈরি করলেও রিয়ালের রক্ষণ তা সামাল দিতে সক্ষম হয়।

প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে গতি ও নাটক দুটোই বাড়তে থাকে। এক দৃষ্টিনন্দন আক্রমণে ইয়ামালের ক্রস থেকে সহজ সুযোগ পেয়েও রাফিনিয়া তা নষ্ট করেন। তবে হতাশা কাটাতে সময় নেননি তিনি। কিছুক্ষণ পরই রিয়াল ডিফেন্ডার রদ্রিগোর ভুলে পাওয়া রিবাউন্ড বল থেকে নিখুঁত শটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

চাপের মুখে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজের একক নৈপুণ্যে অসাধারণ এক গোল করে সমতা ফেরান—ড্রিবলিং, গতি আর ফিনিশিংয়ে ছিল নিখুঁত শিল্পের ছাপ। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বক্সের ভেতরে সবসময় উপস্থিত থাকা রবার্ট লেভানডভস্কি পেদ্রির পাস থেকে গোল করে আবার বার্সাকে এগিয়ে দেন।

বিরতির আগেই নাটক আরও বাড়ে। গনজালোর শট পোস্টে লেগে ফিরলে সেখান থেকেই গোল করে রিয়াল মাদ্রিদকে ফের ম্যাচে ফেরান তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় সমতায়, দর্শকদের জন্য রেখে যায় আরও উত্তেজনার প্রতিশ্রুতি।

দ্বিতীয়ার্ধে এল ক্ল্যাসিকো তার চেনা রূপে ধরা দেয়—তীব্র গতি, শারীরিক দ্বন্দ্ব আর মানসিক চাপের লড়াই। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একের পর এক আক্রমণে জোয়ান গার্সিয়াকে ব্যস্ত রাখেন, রদ্রিগোও গোলের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। মাঝেমধ্যে ধাক্কাধাক্কি, বাগবিতণ্ডা আর রেফারির হস্তক্ষেপ ম্যাচে যোগ করে বাড়তি উত্তাপ।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে রাফিনিয়ার পা। বক্সের কিনারায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে গিয়েও নেওয়া তার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলায়। পুরোপুরি ভুল পায়ে পড়ে যান রিয়াল গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় বার্সেলোনা—এবার আর ফেরার পথ খুঁজে পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতার সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল, কিন্তু আবারও দৃঢ়তায় সামনে দাঁড়ান জোয়ান গার্সিয়া। তার গুরুত্বপূর্ণ সেভ নিশ্চিত করে বার্সেলোনার শিরোপা।

সব মিলিয়ে নাটকীয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আর আবেগে ঠাসা এক এল ক্ল্যাসিকোর শেষে স্প্যানিশ সুপার কাপের ট্রফি ওঠে বার্সেলোনার হাতে। রাফিনিয়ার ভাগ্যছোঁয়া জয়সূচক গোল আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ঝলক—দুটো মিলেই এই ম্যাচকে করে তুলেছে স্মরণীয়



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top