দেশের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার কমছে, সিমকার্ড সংখ্যা সীমিত করার প্রভাব

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিমকার্ড বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে দেশের ৮৮ লাখেরও বেশি সিমকার্ড বন্ধ হয়েছে। এছাড়া এক লাখেরও বেশি সিম মামলা সংক্রান্ত কারণে স্থগিত রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মোবাইল ব্যবহারকারী ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকের কাছে থাকা অতিরিক্ত সিমকার্ড কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকপ্রতি ১০টির বেশি সিম বন্ধ করা হয়।

বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন,

"আমাদের নির্দেশনা ছিল গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিম পর্যন্ত সীমিত করা। এতে প্রায় ৮৯ লাখ অতিরিক্ত সিম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮৮ লাখের বেশি সিম বন্ধ করা হয়েছে। বাকি এক লাখ সিম মামলা সংক্রান্ত কারণে স্থগিত রয়েছে, তবে দ্রুত সেগুলোও বন্ধ করা হবে।"

তবে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আছে, আগামীতে সিমের সংখ্যা গ্রাহকপ্রতি ৫টিতে নামানো হবে। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান জানান,

"সাম্প্রতিক নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং যেহেতু ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহারকারী অনেক, তাই এখনই পাঁচটিতে নামানো হচ্ছে না। নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।"

সিমসংখ্যা কমানোর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মোবাইল গ্রাহক ও ইন্টারনেট ব্যবহারে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু এবং সিম বন্ধের ফলে গত ছয় মাসে প্রায় ১৮ লাখ মোবাইল গ্রাহক ও ৬২.৬ লাখ মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ সালে দেশের চারটি সিম অপারেটরের মোট ১৯ কোটি ৪২ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী ছিল। এক বছর পর জুলাই ২০২৫-এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৮৭ লাখে, আর নভেম্বর ২০২৫-এ ১৮ কোটি ৭০ লাখে।

যদিও ব্রডব্যান্ড (আইএসপি ও পিএসটিএন) ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছে ১১ কোটি ৫২ লাখ গ্রাহক। একই সময়ে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখে পৌঁছেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির মনে করেন,

"মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার দুটি প্রধান কারণ হতে পারে। প্রথমত, সিমকার্ড কমানো। দ্বিতীয়ত, ব্রডব্যান্ড ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া। এছাড়া কভিড-১৯-এর পর ব্যবহারকারীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমেছে।"

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান আরও বলেন,

"গ্রাহকপ্রতি ১০টি সিমে নামালে বড় প্রভাব পড়বে না, তবে পাঁচটিতে নামালে বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে, যা রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে প্রভাব ফেলবে।"



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top