তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস শেষে স্বদেশে ফেরার ঐতিহাসিক মুহূর্ত
অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫
পৌষের মিষ্টি সকালে কুয়াশার চাদর সরিয়ে পূর্ব দিগন্তে উঁকি দিয়েছে ঝলমলে সূর্য। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হলো। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র—সবখানে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মুখর। অবশেষে দেশে ফিরলেন এই বাংলার পুত্র, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জনতার উচ্ছ্বাসে ভরপুর রাজপথ
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে রাজপথে মানুষের ঢল। পুষ্পমাল্যের চেয়েও মূল্যবান চোখের পানি আর বাঁধভাঙা আনন্দে তিনি ফিরে এলেন মায়ের কোলে।
প্রবাস জীবনের ১৭ বছর: দল ও দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার আগে লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছর ৩ মাস ১৪ দিন প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। এই সময়ে তিনি বিএনপিকে সুসংগঠিত রেখেছেন এবং দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ থেকে কাজ করেছেন।
“দেশে ফেরার বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না।” – তারেক রহমান, ফেসবুক পোস্ট
অন্তর্বর্তী সরকারও জানিয়েছে, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের কোনো বাধা নেই এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
রাজনীতিতে ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের শক্তি
তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি দলের নেতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে নেতৃত্বের ব্যপক প্রভাব রেখেছেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষের মনে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁকে একটি বলিষ্ঠ ও সাহসী রাষ্ট্রনেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম।
রাজনীতি ও জীবন দর্শন
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৯ সালে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে জড়িত হন। তিনি তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে রাজনীতি শিখেছেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করেছেন।
তিনি নতুন দিনের রাজনীতিতে শিষ্টাচার, পরমতসহিষ্ণুতা ও উদারনৈতিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনেছেন। তার মূল দৃষ্টিভঙ্গি—“ব্যক্তির চেয়ে দল, দল থেকে দেশের শ্রেষ্ঠত্ব”।
নতুন দিনের রাজনীতি ও দেশপ্রেম
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হয়েছে স্বৈরশাসক সরকারের ১৬ বছরের শাসন। দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রবল দেশপ্রেমের নতুন ঢেউ বইছে। লন্ডনের প্রবাস জীবনে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া স্বদেশপ্রেম আরও বহুগুণ বেড়েছে।
স্বদেশে ফিরে এসে তারেক রহমান এই দেশপ্রেমকে দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।