মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ভিক্ষুক পরিচয়ে কোটিপতি, মাঙ্গিলালের চমকপ্রদ রহস্য ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৯

সংগৃহীত

ইন্দোরের ব্যস্ত সরাফা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করতেন মাঙ্গিলাল নামের এক ব্যক্তি। কাঁধে ব্যাকপ্যাক, হাতে দুইটি জুতো, লোহার চাকার ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন—এবং মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে সাহায্য করতেন। তবে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সত্যি: যাকে দরিদ্র ভিক্ষুক মনে করা হচ্ছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কোটিপতি।

উদ্ধার অভিযান চলাকালীন জানা গেছে, মাঙ্গিলালের নামে তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার আওতায় সরকারি একটি ফ্ল্যাটও তার। তদন্তে প্রকাশ, ভিক্ষা থেকে প্রাপ্ত দৈনিক ৪০০–৫০০ টাকা মূলত জীবিকা নির্বাহের জন্য নয়; বরং তিনি এটি সরাফা এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে সুদে ধার দিতেন। তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৪–৫ লাখ টাকা ধার দিয়েছেন এবং প্রতিদিন ১–২ হাজার টাকা সুদসহ আয় করতেন।

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে পাঠানো হয়েছে এবং তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া তার কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া ব্যবসায়ীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিশ্র আরও বলেন, "মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন, ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ তিনি সরাসরি জীবিকা নির্বাহে ব্যবহার করতেন না; বরং বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে ধার দিয়ে সুদ আদায় করতেন।"

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, শহরে প্রায় ৬,৫০০ ভিক্ষুকের মধ্যে ৪,৫০০ জন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষা ত্যাগ করেছেন, ১,৬০০ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

মাঙ্গিলালের এই কাহিনি ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের এক অপ্রত্যাশিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top