উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বরিশাল ও রাজশাহী
বিপিএল কনসার্টে যারা মঞ্চ মাতালেন
Ruhul Raj | প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:০৮

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম আসরের উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিয়ে বিশাল মহাযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করেছে বিসিবি। যদিও কোন চ্যানেলে মিউজিক ফেস্ট সরাসরি সম্প্রচার না করায় এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান কোন শিল্পী না থাকায় সমালোচনা করতে ছাড়েনি দর্শকেরা।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) মিরপুরে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিপিএল টি-টোয়েন্টি মিউজিক ফেস্ট’। বর্ণিল এই কনসার্টে গান গায় পাকিস্তানের বিখ্যাত শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান এবং তার দল। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস, অ্যাভোয়েড রাফাসহ অনেকেই।
মঞ্চে বাংলাদেশি শিল্পীদের মধ্যে পারফর্ম করতে দেখা যায় মুজা, জেফার রহমান, সঞ্জয় ও হান্নানকে। ঢাকায় সোমবার বিকেলে শুরু হয় জমকালো এই অনুষ্ঠান।
শুধু গানই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপরও ছিলো বিশেষ অনুষ্ঠান। এ ছাড়াও উপদেষ্টা হাসান আরিফের জন্যও জানানো হয় শোক।
অ্যাভোয়েড রাফাকে দিয়ে শুরু হয় গানের অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত মঞ্চ মাতান তিনি। এরপর ২০মিনিট বিরতি দিয়ে মঞ্চে স্বাগত বক্তব্য নিয়ে আসেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ।
৫টা ৩৮ মিনিটে মঞ্চে উঠেন জেফার ও তার দল। ২মিনিটের একটি শো’তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তুলে ধরেন তারা।
পরের ২০মিনিট মঞ্চে থাকেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ সময় তিনি উপদেষ্টা হাসান আরিফের মৃত্যুতে এক মিনিটের শোক পালন করেন।
৬টা থেকে পরের এক ঘণ্টা মঞ্চ কাঁপান জেফার, মুজা, সঞ্জয়রা। সন্ধ্যা ৭টায় উঠে মাইলস। একঘণ্টা মঞ্চে থাকেন তারা। একেএকে সাত দলের মালিকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ৩০মিনিট পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আসল চমক রাহাত ফাতেহ আলী খান মঞ্চে উঠেন রাত সাড়ে ৮টায়। ৩ ঘণ্টা মঞ্চে থাকেন তিনি। এরজন্য অবশ্য সাড়ে ৩ কোটি টাকাও নিচ্ছেন এই পাকিস্তানি সঙ্গীত শিল্পী।
এবারের বিপিএল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে হবে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।
এবারও সাতটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল অংশ নেবে। তারা হলো ঢাকা ক্যাপিটালস, চট্টগ্রাম কিংস, সিলেট স্ট্রাইকার্স, দুর্বার রাজশাহী, খুলনা টাইগার্স, রংপুর রাইডার্স ও ফরচুন বরিশাল।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বিপিএল। উদ্বোধনী ম্যাচে ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বরিশাল ও রাজশাহী। দিনের পরের লড়াইয়ে একই ভেন্যুতে পরস্পরকে মোকাবিলা করবে রংপুর ও ঢাকা।
মোট চারটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে এবারের বিপিএলকে। প্রতি দুই দিন পর থাকবে একদিন করে বিরতি। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি ঢাকায় হবে প্রথম পর্ব, হবে আটটি ম্যাচ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় পর্ব ৬ থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত, হবে ১২টি ম্যাচ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১৬ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত, হবে ১২টি ম্যাচ। এরপর ঢাকায় ফিরবে বিপিএল। চতুর্থ ও শেষ পর্ব হবে ২৬ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, হবে ১৪টি ম্যাচ।
লিগ পর্যায় চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর অনুষ্ঠিত হবে নকআউট পর্যায়। ৩ ফেব্রুয়ারি এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার হবে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার মাঠে গড়াবে ৫ ফেব্রুয়ারি। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। নকআউটের সবগুলো ম্যাচ হবে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। রাখা হয়েছে একদিন করে রিজার্ভ ডে।
সব মিলিয়ে বিপিএলে অনুষ্ঠিত হবে ৪৬টি ম্যাচ। লিগ পর্যায়ে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ মাঠে গড়াবে। প্রথম ম্যাচ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এবং দ্বিতীয় ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। তবে শুক্রবার প্রথম ম্যাচ দুপুর ২টা এবং দ্বিতীয় ম্যাচ সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।