রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২

হিন্দুত্ববাদী হুমকির মুখে মুস্তাফিজ ইস্যু: বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতার বড় ধাক্কা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলের নতুন মৌসুম শুরুর আগেই অদ্ভুত ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই)। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যেই মুস্তাফিজকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি।

কয়েকদিন আগেই আইপিএল নিলামে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে তুমুল লড়াই করে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় কলকাতা। কিন্তু নতুন মৌসুমে একটিও বল করার আগেই বিদেশি এই পেসারকে হারাতে হলো দলটিকে।

আইপিএল নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় কেনার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির পার্স সাধারণত লকড হয়ে যায়। তবে মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি নিজে সরে দাঁড়াননি কিংবা ইনজুরিতেও পড়েননি। বরং বহিরাগত কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিসিসিআই সরাসরি তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

লিগের অপারেশনাল গাইডলাইন অনুযায়ী, ক্রিকেটের বাইরের কারণে বিসিসিআই হস্তক্ষেপ করে যদি কোনো খেলোয়াড়কে সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি সাধারণত নিলামে খরচ করা পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার রাখে। সে হিসেবে কলকাতা তাদের ব্যয় করা ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি ফেরত পাওয়ার দাবি করতে পারে।

মুস্তাফিজকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিকে ‘ফোর্স মাজর’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি এমন একটি চুক্তিগত ধারা, যেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো ঘটনায় চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়ায় কলকাতার সঙ্গে তার চুক্তি কার্যকর রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

তবে ভবিষ্যতে যদি মুস্তাফিজ কলকাতা বা বিসিসিআইয়ের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন, তাহলে সেটি জটিল আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি কলকাতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে রেজিস্টার্ড অ্যাভেইলেবল প্লেয়ার পুল (আরএপিপি) কিংবা দ্রুত রিপ্লেসমেন্ট ড্রাফট থেকে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার পূর্ণ আর্থিক সক্ষমতা বজায় থাকবে। অর্থ ফেরত না পেলে এমন একটি পরিস্থিতির মাশুল গুনতে হবে কলকাতাকে, যেখানে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

এদিকে বিসিসিআই নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। বোর্ডের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, কলকাতাকে একজন বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে কবে এবং কীভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

কলকাতা নাইট রাইডার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা অনুসারে সব প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ পরামর্শ শেষে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইপিএলের নীতিমালা অনুযায়ী বদলি খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমোদনও দিয়েছে বোর্ড। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”

নতুন একজন বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়ার ক্ষেত্রে কলকাতার হাতে পুরো ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিই থাকতে পারে। তবে ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানের মতো সমমানের বোলার খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য যে অত্যন্ত কঠিন—তা বলাই বাহুল্য।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top