সৌদি আরবে প্রথমবারের মতো বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৮
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সৌদি আরবে আবাসন খাতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসছে। নতুন আইন অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক ও প্রবাসীরা নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সরাসরি সম্পত্তি কিনতে পারবেন। এই আইন ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অনুমোদিত হয়েছে, এবং এর মূল লক্ষ্য হলো ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং আবাসন বাজারকে শক্তিশালী করা।
কাদের জন্য সুযোগ
আইনের প্রাথমিক সুবিধা পাবেন সৌদি আরবে কর্মরত উচ্চপদস্থ বিদেশি পেশাজীবীরা, বিশেষ করে রিয়াদ ও জেদ্দা শহরে যারা বর্তমানে উচ্চ ভাড়ার চাপের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া জিসিসি অঞ্চলের বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম ক্রেতারাও সুবিধাভোগীর তালিকায় উপরে থাকবেন।
বাজার ও চাহিদা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম বছরে চাহিদা মূলত আবাসিক এলাকায় বেশি থাকবে। রিয়াদ হবে সর্বাধিক আকর্ষণীয় কেন্দ্র, কারণ এটি কর্মসংস্থান ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান শহর। এরপর জেদ্দা শহর বিদেশি ক্রেতাদের জন্য জীবনযাত্রার মান ও বিনোদনের কারণে আকর্ষণ বাড়াবে।
নির্দিষ্ট এলাকা ও সীমাবদ্ধতা
পুরো সৌদি আরব জুড়ে বিদেশিরা এখনই সম্পত্তি কিনতে পারবে না। রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি নির্ধারিত বিশেষ এলাকায় মালিকানা সীমিত রাখছে। পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা-তে মালিকানা এখনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
ঝুঁকি ও সতর্কতা
নতুন বাজারে বিনিয়োগের আগে আইনি অনুমোদন, ফি, মালিকানার ধরন ও পুনর্বিক্রির নিয়মাবলী সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কারণ নতুন বাজারে দ্রুত লাভের আশায় প্রাথমিক বিক্রির প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে তুলনা
দুবাই বা আবুধাবির বাজারের তুলনায় সৌদি আবাসন বাজার এখনও নিয়ন্ত্রিত ও উন্নয়নশীল। বিদেশি ক্রেতাদের উচিত যথাযথ অনুসন্ধান ও ডিউ ডিলিজেন্স করা। ব্যাংক ঋণ বা ফাইন্যান্সিং সুবিধা এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন এই আইন প্রবাসীদের জন্য কেবল বসবাসের সুযোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গড়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: গালফ্ নিউজ
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।