স্ক্যাম সেন্টার পরিচালনার দায়ে আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৬
মিয়ানমারে স্ক্যাম সেন্টার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনই কুখ্যাত মাফিয়া গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘বাই’ পরিবারের সদস্য।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাই পরিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কয়েক হাজার চীনা নাগরিককে ফাঁদে ফেলে সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এসব প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় বেইজিং। এরই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বাই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ওয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত প্রতারণা, হত্যা, গুরুতর জখম ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে এরইমধ্যে বাই পরিবারের ২১ সদস্য ও তাদের সহযোগীদের সাজা দিয়েছেন। সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া চারজনও এই মামলার আসামি ছিলেন। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আদালত মাফিয়া গোষ্ঠীর প্রধান বাই সুওচেংসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগেই অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান বাই সুওচেং।
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর লাউককাইং-এ গত কয়েক বছর ধরে বাই, মিংসহ কয়েকটি পরিবার প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। সেখানে তারা ক্যাসিনো, যৌনপল্লি এবং বৃহৎ পরিসরের সাইবার প্রতারণা চক্র পরিচালনা করত। গ্রেপ্তারের পর বাই সুওচেং-এর ছেলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এসব অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে বাই পরিবার ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাই পরিবার নিজেদের একটি সশস্ত্র বাহিনীও পরিচালনা করত। সাইবার প্রতারণা ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের জন্য তারা অন্তত ৪১টি আস্তানা গড়ে তুলেছিল। এসব স্থানে বন্দিদের ওপর নিয়মিত সহিংসতা, মারধর ও নির্যাতন চালানো হতো।
চীনা আদালতের তথ্য অনুযায়ী, বাই পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিক নিহত হয়েছেন। একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
২০০০ সালের শুরুর দিকে লাউককাইং-এর তৎকালীন এক যুদ্ধবাজ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং, যিনি বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান। অভিযানের পর লাউককাইং-এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বাই পরিবারের হাতে।
২০২৩ সালে এসে এই অপরাধী পরিবারগুলোর সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রতারণা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চীন ক্ষুব্ধ হয়। পরোক্ষভাবে ওই অঞ্চলের জাতিগত বিদ্রোহীদের অভিযানে সমর্থন দেয় বেইজিং, যা মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতারক মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো আটক হয় এবং তাদের সদস্যদের চীনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।