বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে একসঙ্গে ৩ বোনের আত্মহত্যা!

সারাবিশ্ব ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৩৫

৯ তলা থেকে লাফ দিয়ে একসঙ্গে ৩ বোনের আত্মহত্যা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের গাজিয়াবাদে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে তিন বোন একসঙ্গে ৯ তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মৃত তিন বোনের নাম বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) এবং পাখি (১২)। গত মঙ্গলবার রাত ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ গাজিয়াবাদের ভারত সিটি আবাসন চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে একে ‘গণ-আত্মহত্যা’ মনে হলেও, প্রত্যক্ষদর্শী অরুণ সিংয়ের বয়ান অনুযায়ী, এটি ছিল একটি দুর্ঘটনা।

অরুণ জানান, তিনি নিজের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন পাশের ব্লকের নবম তলার ব্যালকনিতে এক বোনকে রেলিংয়ের উপর বসে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন, কিছু দাম্পত্য অশান্তি চলছে। তারপর দেখতে পান, এক বোন ঝাঁপ দিতে যাচ্ছে, আর অন্য দুটি বোন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। একবার তাদের মধ্যে একজনকে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কয়েক মিনিট পর, সেই কিশোরী আবার রেলিংয়ে উঠে বসে। এর পর, অন্য একটি ছোট মেয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে নামানোর চেষ্টা করলে, তিনটি বোন একসঙ্গে নিচে পড়ে যায়। অরুণ সিং আরও জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পর এক ঘণ্টা সময় নিয়ে তা পৌঁছায়, যা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট এবং একটি পকেট ডায়েরি উদ্ধার করেছে। ডায়েরির পাতায় অনলাইন গেমিং এবং মোবাইল আসক্তির বিষয়ে নানা উল্লেখ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এই তিন বোন কোরিয়ান একটি অনলাইন গেমের প্রতি মারাত্মক আসক্ত ছিল এবং তারা নিজেদের আসল নাম বদলে কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত।

তাদের বাবা চেতন কুমার জানান, মেয়েরা প্রায়ই বলত, "কোরিয়া আমাদের জীবন, কোরিয়া আমাদের ভালোবাসা," এবং মোবাইল ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। দুই বছর ধরে তারা স্কুলে যেতে বন্ধ করে দিয়েছিল এবং শুধু গেমের দিকে মনোযোগী হয়ে উঠেছিল।

তদন্তকারীরা কিশোরীদের শোয়ার ঘরের দেওয়ালে বিষণ্নতার নানা বার্তা পেয়েছেন, যেমন- "আমি খুব একা" এবং "হৃদয় ভেঙে চুরমার"। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, "এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে তা সত্যি। সবটা পড়ে নিও। সরি পাপা", এবং নোটের শেষে কান্নার ইমোজি আঁকা ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মেজ বোন প্রাচীই ছিল এসব কিছুর নেপথ্যে। ব্যালকনির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তারা চার ফুট উঁচু রেলিং টপকাতে একটি ছোট টুল ব্যবহার করেছিল। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ এখন ওই গেমটির উৎস এবং কিশোরীদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top