নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দিল ইরান, পাবেন লাইসেন্সও
সারাবিশ্ব ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:২৬
ইরানে এখন থেকে নারীরা মোটরসাইকেল চালানোর জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়, যা দেশটির মোটরসাইকেল ও স্কুটার-সংক্রান্ত আইন সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতার অবসান ঘটিয়েছে।
আগে, ইরানে নারীদের জন্য মোটরসাইকেল চালানোর আইনটি ছিল অস্পষ্ট। যদিও আইন অনুযায়ী, নারীদের মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ ছিল না, কিন্তু বাস্তবে কর্তৃপক্ষ তাদের লাইসেন্স প্রদান করত না। এই অস্পষ্টতার কারণে, দুর্ঘটনার শিকার হলেও নারীদেরকে আইনিভাবে দায়ী করা হতো।
ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ গত মঙ্গলবার এক রেজল্যুশনে সই করেন, যার মাধ্যমে ট্রাফিক আইনের নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে। ইরান লেবার নিউজ এজেন্সি (ইলনা) জানায়, জানুয়ারির শেষে মন্ত্রিসভা এই পরিবর্তন অনুমোদন দেয়।
রেজল্যুশনের আওতায়, ট্রাফিক পুলিশকে এখন নারীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান, পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা আয়োজন এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর জন্য লাইসেন্স দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইরানে গত কয়েক মাসে নারীদের আন্দোলনের ঢেউয়ের পর এই পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও তা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। দেশটির সরকার স্বীকার করেছে, আন্দোলনের সময় তিন হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, তবে দাবি করা হয় নিহতদের বেশির ভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং পথচারী।
একটি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করা ৩৩ বছর বয়সী সাইনা জানালেন, তিনি গত ৬ মাস ধরে স্কুটারে অফিসে যাতায়াত করছেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক দেরিতে এসেছে, কারণ নারীরা তো কিছুদিন ধরেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন।”
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরানে নারীদের জন্য কিছু পোশাক-সংক্রান্ত নিয়ম চালু রয়েছে। এসব নিয়ম মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে, গত কয়েক বছরে অনেকেই এসব নিয়ম মানছেন না, এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।