অনলাইন ডেস্ক: ভারতের হিমালয় কন্যা সিকিমে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। অন্তত ৮ থেকে ১০ বার কম্পনে কেঁপে ওঠে গ্যাংটক, নামচি ও মাঙ্গান এলাকা। এসব ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে, বিশেষ করে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ও মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পগুলোর কেন্দ্রস্থল ছিল সিকিমের নামচি ও মাঙ্গান অঞ্চল।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৯ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৬। এরপর রাত ২টা ৫০ মিনিটে ৪.৪ এবং ভোর ৩টা ৩১ মিনিটে ৪.০ মাত্রার আরও দুটি মাঝারি কম্পন রেকর্ড করা হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত অন্তত ৫–৬টি ছোট আকারের আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পগুলোর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে, যা অগভীর হওয়ায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
নীলফামারীর এক বাসিন্দা বলেন, “আমি বিছানায় ছিলাম, হঠাৎ মনে হলো ঘর দুলছে। খুব ভয় পেয়েছিলাম, পরে বুঝলাম ভূমিকম্প হয়েছে।”
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, সিকিম ও পার্শ্ববর্তী হিমালয় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত হওয়ায় বড় কম্পনের পর ছোট ছোট আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকাতেও ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।