কার্টেল সহিংসতায় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফিফা
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩০
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে মেক্সিকোতে নতুন করে কার্টেল সহিংসতা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে—দেশটি কি আসন্ন এই বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর নিরাপদভাবে আয়োজন করতে পারবে?
মেক্সিকোর কুখ্যাত কার্টেল নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সহিংস প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ছিলেন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দুকধারীরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে যানবাহনে আগুন দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দেশের বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্বকাপ দেখতে আসা বিদেশি দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরগুলোর একটি গুয়াদালাহারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান এবং গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানবন্দরে যাত্রীদের আতঙ্কিত অবস্থায় দৌড়াতে দেখা যায়। উপকূলীয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তা-তেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, এয়ার কানাডা, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্স ওই অঞ্চলে তাদের কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
২০২৬ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ, যেখানে মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে লাখো বিদেশি দর্শকের আগমন প্রত্যাশিত।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টি নিশ্চিত করে মেক্সিকোর বাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, অধিকাংশ অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, পুড়ে যাওয়া যানবাহন, বাতিল স্কুল কার্যক্রম এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণিত দৃশ্যগুলো আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সিজেএনজি দীর্ঘদিন ধরেই ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একটি শক্তিশালী কার্টেল। নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বাড়লে সহিংসতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা-র সামনে বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—মেক্সিকো কি বিশ্বকাপে আসা প্রায় ১০ লাখ বিদেশি দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে?
এ বিষয়ে ফিফা এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিভিন্ন দেশ তাদের ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে মেক্সিকোতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের ঘরে থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সূত্র : তুর্কি টুডে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।