মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, ৭ আরোহীর সবাই নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের চাত্রা জেলায় একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত হয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাঁচি থেকে দিল্লিগামী চিকিৎসাসেবার এই ফ্লাইটটি দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

জেলার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানান, বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় ২০ মিনিট পর এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সিমারিয়ার বারিয়াতু পঞ্চায়েতের ঘন বনাঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

বিমানটি পরিচালনা করছিল রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, এটি ছিল একটি চিকিৎসাসেবার ফ্লাইট। বিচক্রাফট সি-৯০ মডেলের বিমানটি উড্ডয়নের কিছু সময় পর রাডার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুই পাইলট ও পাঁচ যাত্রী রয়েছেন। তারা হলেন- ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত, ক্যাপ্টেন সাভরাজদীপ সিং, সঞ্জয় কুমার, ডা. বিকাশ কুমার গুপ্তা, সচিন কুমার মিশ্র, অর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার।

রাঁচির দেবকমল হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী অনন্ত সিনহা জানান, ৪১ বছর বয়সী সঞ্জয় কুমারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তিনি ৬৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিবারের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন ছিল যে সড়কপথে স্থানান্তর সম্ভব ছিল না।

দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। রাঁচি বিমানবন্দরের পরিচালক বিনোদ কুমার বলেন, খারাপ আবহাওয়া একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হবে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, রেডবার্ড এয়ারওয়েজ ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৯ সালে নন-শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পায়। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ছয়টি বিমান রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top