রোজায় লুকিয়ে থাকা দীর্ঘায়ুর গোপন রহস্য জানালেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স মেডিসিনের গবেষক মার্ক ম্যাটসন বলেছেন, দীর্ঘায়ু বাড়াতে রোজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি গত ২৫ বছর ধরে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে গবেষণা করছেন এবং দেখেছেন যে, মানবদেহ এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যে আমরা কয়েক দিন পর্যন্ত খাবার ছাড়াই বেঁচে থাকতে সক্ষম।
ম্যাক্সটনের মন্তব্য মিলেছে জাপানি কোষজীববিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমির আবিষ্কারের সঙ্গে। ২০১৬ সালে ‘অটোফ্যাজি’ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম উদ্ঘাটন করে নোবেল পুরস্কার পান ওসুমি। অটোফ্যাজি হলো একটি কোষীয় প্রক্রিয়া, যা ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় কোষ অংশ ভেঙে পুনর্ব্যবহার করে শক্তি জোগায় এবং কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে।
মানবজাতির বিবর্তনের ইতিহাসে রোজা বা খাওয়া-না-খাওয়ার চক্র স্বাভাবিক ছিল। হাজার হাজার বছর ধরে শিকারি-সংগ্রাহক জীবনধারায় মৌসুমি খাদ্যসংকটের মধ্য দিয়ে মানুষ ‘মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ শিখেছে। অনাহারে অটোফ্যাজি সক্রিয় হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্ব্যবহার করে শক্তি সরবরাহ করত।
রোজার স্বাস্থ্য উপকারিতা-
ওজন নিয়ন্ত্রণ: চর্বি ব্যবহার বাড়িয়ে ভিসেরাল ফ্যাট কমাতে সহায়তা করে।
বিপাকীয় স্বাস্থ্য: রক্তে শর্করা ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
প্রদাহ হ্রাস: হৃদরোগ ও আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: স্মৃতি ও জ্ঞানের কার্যকারিতা বাড়ায়; আলঝেইমার ও পারকিনসনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
কোষ মেরামত ও অটোফ্যাজি: ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে।
আন্ত্রিক স্বাস্থ্য: উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি ও পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম নিশ্চিত করে।
দীর্ঘায়ু: চাপ-সহনশীলতা বাড়িয়ে বার্ধক্য বিলম্বিত করতে পারে।
ম্যাক্সটন ও ওসুমির গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা অটোফ্যাজি সক্রিয় করে কোষের ক্ষতি পরিষ্কার করে, প্রদাহ কমায় এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়। তবে রমজান মাসে পর্যাপ্ত পানি পান ও ধীরে ধীরে শুরু করা জরুরি। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।