রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, দুবাই, দোহা এবং মানামায় আরও বিস্ফোরণ

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৭

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে ইরানের হামলা, দুবাই, দোহা এবং মানামায় আরও বিস্ফোরণ।  ছবি: সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরান পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। এর জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা এবং বাহরাইনের মানামা শহরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোহার দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের পর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

দুবাইতেও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তার কারণে আকাশে সাদা ধোঁয়ার রেখা দেখা যায়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর জেবেল আলী বন্দর এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

মানামায় কমপক্ষে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ১৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। দুবাইয়ের প্রতীকী স্থাপনা পাম জুমেইরাহ এবং বুর্জ আল-আরব এলাকায় আগুন ও ধোঁয়া পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে।

আবুধাবি বিমানবন্দরে অন্তত একজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সাময়িক বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।

কাতারি কর্মকর্তারা জানান, তাদের ভূখণ্ডের দিকে ৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এতে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

ওমান বাদে উপসাগরীয় প্রায় সব দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ এসব আরব রাষ্ট্রে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। ইরান জানিয়েছে, এসব স্থাপনাই তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার লক্ষ্যবস্তু।

উত্তর ইরাকে এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনা উপস্থিত রয়েছে।

এদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মান-এর আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। কুয়েতেও সাইরেন বেজে ওঠার খবর এসেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকে “একটি মহা অপরাধ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহিম মুসাভিও নিহত হয়েছেন বলে তেহরান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ও কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top