সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘর্ষ অব্যাহত

কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ, বাগরাম ঘাঁটিতে ব্যর্থ হামলার দাবি

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৮

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘর্ষ অব্যাহত। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তালেবান প্রশাসন দাবি করেছে, আফগান আকাশসীমায় প্রবেশ করা পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের ওপর বিমানবিধ্বংসী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে।

তালেবান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কাবুলের উত্তরে অবস্থিত প্রাক্তন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানের একটি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। পাকিস্তান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাকিস্তান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে দুই দেশ এখন “খোলা যুদ্ধে” জড়িয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, দক্ষিণ জোব সেক্টরে আফগান ভূখণ্ডের প্রায় ৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের উপ-সরকার মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর পাকিস্তানি হামলায় বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, নাঙ্গারহারে ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশু, পাকতিয়ায় মর্টার হামলায় এক বেসামরিক ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উভয় পক্ষের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

তালেবান প্রশাসন আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, “কোনও আলোচনা হবে না। কোনও সংলাপ নেই। আমাদের একমাত্র দাবি—আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।”

এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)–কে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধ। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুল টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও আফগান তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সীমান্তবর্তী নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে টিটিপির ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই হামলায় ১৩ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে।

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে পাকিস্তান এগিয়ে—তাদের রয়েছে উন্নত যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘ দুই দশক ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আফগান তালেবান ড্রোনসহ সাশ্রয়ী কৌশল ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক আহ্বান জোরদার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডান—সবাই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক কূটনৈতিক মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ না হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ দ্রুত বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষিত থাকায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top