ইরান ইস্যুতে চীন-রাশিয়ার নীরবতা: ‘অংশীদার’ বনাম ‘মিত্র’ বাস্তবতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে— তেহরানের ঘনিষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত চীন ও রাশিয়া সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে না কেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুটি কূটনৈতিক শব্দে: ‘অংশীদার’ ও ‘মিত্র’।
কৌশলগত অংশীদার, তবে প্রতিরক্ষা জোট নয়
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি ইরান ও রাশিয়া ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি সই করে। এতে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা থাকলেও যৌথ প্রতিরক্ষা বা যুদ্ধকালীন সহায়তার বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ হামলার মুখে মস্কোর ভূমিকা পরামর্শ ও সীমিত সহায়তায় সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ইরানের ২৫ বছরের বড় অর্থনৈতিক চুক্তি সই হয়। প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতায় চীন ইরানকে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করলেও সেটি মূলত বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতাকেন্দ্রিক। সামরিক জোটের কোনো বাধ্যবাধকতা এতে নেই।
নিন্দা আছে, সরাসরি পদক্ষেপ নেই
হামলার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই টেলিফোনে কথা বলে ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিন্দা জানালেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কূটনৈতিক সমর্থন দিতে পারে, ভেটো প্রয়োগ করতে পারে; কিন্তু বাস্তবে সামরিক সংঘাতে জড়ানো তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী।
অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের বড় অংশ কিনছে চীন। আবার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ড্রোনসহ সামরিক প্রযুক্তিতে ইরান-রাশিয়া সহযোগিতাও বেড়েছে। ফলে তেহরানকে পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই, আবার সরাসরি যুদ্ধে নামাও ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘মিত্র’ হলে যেমন ন্যাটো-এর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী সদস্য দেশগুলো একে অন্যের হয়ে লড়াই করে, ইরান-চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক তেমন নয়। এখানে সম্পর্কটি কৌশলগত ও স্বার্থভিত্তিক—যতক্ষণ তা বড় যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি না করে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।