শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নেপালে সরকার গঠন করেছে জেন-জি নেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে তরুণ প্রজন্মের সমর্থিত দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। নির্বাচনের ফলাফলের প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে দলটি।

দলটির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এবং কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ ঝাপা–৫ আসনে পরাজিত করেছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে। বলেন্দ্র শাহ ‘বলেন’ নামেও পরিচিত।

তরুণদের আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের মুখে গত ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে।

নেপালের সংসদের নিম্নকক্ষের মোট ২৭৫ সদস্য নির্বাচনের জন্য গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোটে এবং ১১০টি আসনে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সদস্য নির্বাচন করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল ও প্রবণতা অনুযায়ী সরাসরি নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ১১২টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে এটি একটি রেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল ১২টি, নেপালের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস ১০টি এবং সাবেক মাওবাদী গেরিলা নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহালের দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। রুকুম পূর্ব–১ আসনে নিজেও এগিয়ে আছেন পুষ্পকমল দহাল।

ওলি সরকারের পতনের পর রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিতে রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি আন্দোলন করেছিল। তবে নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলটি মাত্র একটি আসন পেতে পারে।

অন্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলে সরাসরি নির্বাচনে আটটি আসনে জয় পেতে পারেন।

অতীতে নেপালের তরাই অঞ্চলের মধেশি জনগোষ্ঠীর দলগুলো ভালো ফল করলেও এবারের নির্বাচনে ওই অঞ্চলেও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির শক্ত অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

সংসদের বাকি ১১০টি আসনে আনুপাতিক পদ্ধতিতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে মনোনীত প্রার্থীদের সদস্যপদ দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে সাবেক গায়ক ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহর সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নেপাল দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

এ ছাড়া পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর অভিজ্ঞ নেতারা অতীতে বহুবার দল ভাঙন ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। তাই নতুন সরকারের সামনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top