শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ধর্মতলায় অনির্দিষ্টকালের অনশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৪

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতার ধর্মতলায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনশন শুরু করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার এই কর্মসূচি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী দলগুলো।

আগামী ৭ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতার অভিযোগ তুলে রাজপথে নেমেছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্যের প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ ভোটারের মধ্যে নতুন করে বিবেচনাধীন তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্রায় ৬২ লাখ নাম। অন্যদিকে বাদ পড়েছে প্রায় ৫৮ লাখ নাম। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে প্রতিপক্ষ দল।

অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে মৃত ও স্থানান্তরিত প্রায় ৫৮ লাখ ভোটার রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। এ সময় তীব্র বক্তব্য দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, যেকোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় যেতে চায় বিরোধী দল এবং সেই লক্ষ্যেই ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই বাধ্য হয়েই তিনি আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই এমন কর্মসূচি নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

যদিও অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে এখনো শক্ত কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি। এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন নামগুলোর যাচাই দ্রুত শেষ করতে বিচারকদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে দুই হাজার পঁচিশ সালে বিহারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় তিপ্পান্ন লাখ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে একটি বড় রাজনৈতিক দল। এরপর পশ্চিমবঙ্গসহ বারোটি রাজ্যে একই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেই।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top