রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

‘শাহেদ’ ড্রোন ঠেকাতে ইউক্রেনের প্রতিরোধী ড্রোন কিনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬, ১০:০৫

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে তৈরি বিশেষ প্রতিরোধী ড্রোন কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে এবং তারা এই প্রতিরোধী ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে ইউক্রেন এমন উন্নত অস্ত্র পেতে চায়, যেগুলো তারা নিজেদের দেশে তৈরি করতে সক্ষম নয়।

চার বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হলে ইউক্রেনের নিজস্ব অস্ত্রশিল্প খুবই দুর্বল ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য দেশটি দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোযোগ দেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলে। এর বড় অংশই কম খরচে ড্রোন তৈরির ওপর নির্ভরশীল।

এই ড্রোনগুলোর একটি অংশ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন ধ্বংস করার জন্য। বর্তমানে রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যায় এসব ড্রোন ব্যবহার করছে।

সাধারণত একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে পশ্চিমা দেশগুলো যে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার প্রতিটির দামই অনেক বেশি। কিন্তু ইউক্রেনের তৈরি তুলনামূলক কম খরচের প্রতিরোধী ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষার প্রচলিত ধারণায় বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো চাইলে ইউক্রেন তাদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এ ধরনের ড্রোন নির্মাতা একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা প্রতি মাসে প্রায় পঞ্চাশ হাজার পর্যন্ত ড্রোন তৈরি করতে পারে এবং এর মধ্যে পাঁচ থেকে দশ হাজার পর্যন্ত বিদেশে সরবরাহ করা সম্ভব।

তবে শুধু ড্রোন তৈরি করলেই হবে না, সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনাও জরুরি। ইউক্রেনের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটরা এ কাজে অভিজ্ঞ। তাই বিদেশি বাহিনীকে তিন সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের যুগেও ছোট কিন্তু নিখুঁতভাবে পরিচালিত এই ধরনের ড্রোন কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুই হাজার বাইশ সালে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির জন্য অস্ত্র রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন কম খরচের প্রতিরোধী ড্রোন তৈরির কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ব্যাপক আগ্রহ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য দেশও এ ধরনের ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত প্রযুক্তি এবং ব্যাপক উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বর্তমানে ইউক্রেনই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top