গাজার আশ্রয়শিবিরে নতুন আতঙ্ক, ঘুমন্ত মুসলিমদের শরীর কামড়ে খাচ্ছে ইঁদুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:২০
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এক ভয়াবহ সংকট ইঁদুরের উপদ্রব। ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী তাবুতে বসবাস করা ফিলিস্তিনিরা এখন প্রতি রাতেই বড় বড় ইঁদুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি গাজা সিটির একটি তাবুতে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনশিরাহ হাজ্জাজ নামে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার পায়ের আঙুল ইঁদুর কামড়ে খেয়ে ফেলেছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরদিন সকালে ক্ষত দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি একটি অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার পায়ে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
গাজা উপত্যকার প্রায় ২২ লাখ মানুষের মধ্যে অন্তত ১৫ লাখ মানুষ এখন জরাজীর্ণ তাবুতে বসবাস করছেন। টানা বোমাবর্ষণে অঞ্চলটির প্রায় ৮০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে বাধা থাকায় ভেঙে পড়েছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে খোলা জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পয়ঃবর্জ্য ইঁদুর ও পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগী ইনশিরাহ হাজ্জাজ জানান, তাদের তাবুর চারপাশ ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনায় ভরা। প্রতিদিন শত শত ইঁদুর সেখানে ঘোরাফেরা করে। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জীবনে কখনো ভাবেননি ইঁদুর তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করবে। এখন আতঙ্কে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারছেন না।
শুধু বৃদ্ধরাই নন, এই ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শিশুরাও। উত্তর-পশ্চিম গাজা সিটির আল-মাকুসি এলাকায় মাত্র ২৮ দিন বয়সী নবজাতক আদাম আল-উস্তাজের মুখে ইঁদুর কামড়ে গুরুতর জখম করেছে। শিশুটির বাবা ইউসেফ আল-উস্তাজ জানান, গভীর রাতে সন্তানের কান্নায় ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইলের আলোয় তিনি দেখেন শিশুটির মুখ রক্তাক্ত।
দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার গালে গভীর ক্ষত শনাক্ত করেন। বর্তমানে গাজার হাসপাতালগুলোতে ইঁদুরের কামড়ে আহত অসংখ্য শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
গাজা পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন হাজার হাজার অভিযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো গাজা সিটিজুড়ে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ ও কঠিন বর্জ্য জমে আছে, যা ইঁদুরের বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবরোধ পরিস্থিতির কারণে ইঁদুর দমনের বিষ, জ্বালানি ও ভারী যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে দ্রুত কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সংস্থাটির আশঙ্কা, এই অনিয়ন্ত্রিত ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বড় ধরনের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে গাজাজুড়ে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় তা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউসেফ আল-উস্তাজের মতো অসংখ্য অভিভাবক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অবকাঠামো সংস্কার ও আবর্জনা অপসারণের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত এই ভয়াবহ ‘ইঁদুর আতঙ্ক’ থেকে মুক্তি মিলবে না। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।