শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ডে উত্তাল ক্যাম্পাস, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

ইবি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪২

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে বিভাগের সাবেক এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড শুধু একজন শিক্ষিকার জীবনাবসান নয়, বরং শিক্ষকতার মহান আদর্শ ও মূল্যবোধের ওপর এক গভীর আঘাত। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম এক শোকবার্তায় বলেন, কর্মচারীর ব্যক্তিগত ক্ষোভের এমন ভয়াবহ রূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক তানিম তানভীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মানবিকতা ও জ্ঞানচর্চার পবিত্র স্থান। সেখানে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

শাখা ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের তথ্য-গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক শাহ নেওয়াজ সুজন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মহত্যার চেষ্টা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার কোনো কৌশল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শাখা খেলাফত ছাত্র মজলিসের প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুনায়েদ বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

ছাত্র সংগঠনগুলো মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। বদলির আগে তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও আচরণে পরিবর্তন না আসায় কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top