এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের লাগাতার ধর্মঘট
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪০
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে ফের লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এর ফলে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে সব ধরনের পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে কোনো ট্রেলার বা পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন প্রবেশ করেনি। আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের দাবি, বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন আন্দোলন দমাতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বন্দরের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগ্রাম পরিষদের দুজন নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন,
“সকাল থেকেই আমাদের ধর্মঘট চলছে। বন্দরের কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজে যোগ দেননি।”
আন্দোলন দমাতে কর্তৃপক্ষ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন,
“শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে আমাদের দুজন নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতির ডাক দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে তারা চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ-এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে পরিষদ লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রাম বন্দরে গেলে শ্রমিক-কর্মচারীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত করেছিলেন।
তবে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে সংগ্রাম পরিষদ আবারও রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার।
এনএফ৭১/মিঠু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।