এনসিটি ইজারা ইস্যুতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু, অচল চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:২২
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা ইস্যুতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন এ ঘোষণা দেন।
এর আগে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
তবে ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রমজানের পণ্য খালাসের কথা বিবেচনায় নিয়ে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয় এবং কার্যক্রম চলমান থাকে।
আন্দোলন স্থগিতের পরপরই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন জানায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের স্বার্থে আমরা কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বন্দর চেয়ারম্যান (রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। ফলে আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো- ১. এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, ২. বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ, ৩. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল, ৪. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন, শরীফ হোসেন ভুট্টোসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমুদ্রপথে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশ পরিবহন হয়। কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এ বন্দরের অংশ প্রায় ৯৯ শতাংশ। বন্দর বন্ধ হলে কনটেইনারভিত্তিক রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে এবং শিল্পকারখানার আমদানিকৃত কাঁচামাল খালাসও স্থবির হয়ে পড়বে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।