শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২

ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার

মিজানুর রহমান | প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:০১

ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের জয়জয়কার।  ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের সব কটিতেই জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।
 
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। এরপর গণনা শেষে রাত ২টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেনী-১ আসনে ৫৬.৪১ শতাংশ, ফেনী-২ আসনে ৫১.৮৭ শতাংশ ও ফেনী-৩ আসনে ৫৪.৪৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
 
ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫২ জন। এখানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা) ৫ হাজার ৩২৩, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪০, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা (বটগাছ) ৩১০, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) ২১৫ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন) ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।
 
ফেনী-২  আসনে মোট ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন ভোটার ছিলেন।  এই আসনে বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট থেকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (ঈগল) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। অন্যান্যদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা) ৬ হাজার ৮৪৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা) ৮২০, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ৮০১, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া) ৭০৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক) ৪০৯, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি) ৩২২, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ) ৩০৪, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা) ২৪০ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল) ২৩৯ ভোট পেয়েছেন।
 
 
ফেনী-৩  আসনে ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন ভোটার ছিলেন।  এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৭০১, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৪২৭, বাসদের আবদুল মালেক (মই) ৭৩১, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের (চেয়ার) ৫৩১, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল) ৩২৭ ও খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ) ৩২০ ভোট পেয়েছেন।
 
এবারের নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী,চাকুরিজীবি ও ভোটগ্রহণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রার্থীর পাশাপাশি সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এতে ফেনী-১ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৯,৫৪৯ ও ‘না’ ৬০,০৫৮ ভোট; ফেনী-২ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৩৮,৭৩২ ও ‘না’ ৭২,৫৩৩ ভোট এবং ফেনী-৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ১,৬১,৩২১ ও ‘না’ ১১৪ ভোট পড়েছে।
 
ফেনীর তিনটি আসনে মোট ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন ভোটারের বিপরীতে নির্বাচনি মাঠে ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।


বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top