সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত প্রার্থীর
লালমনিরহাট-২ আসনে ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ
জুবাইর আহমেদ খান রোহান | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫২
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী–কালীগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দার (লাভলু)। একই সঙ্গে তিনি আসনের সব ভোটকেন্দ্রের কাস্টিং ভোট পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার গিলাবাড়ীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ লালমনিরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ হায়দার লাভলু অভিযোগ করে বলেন, ভোট গণনার সময় একাধিক কেন্দ্রে চরম অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, “ঘোষিত ফলাফলের সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সরবরাহ করা বিবরণী ও গণনাপত্রের কোনো মিল নেই। অনেক কেন্দ্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব করা হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে বহু ব্যালট প্রতিফলিত হয়নি বলে আমাদের দৃঢ় সন্দেহ রয়েছে।”
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভেলাবাড়ি, দুর্গাপুর, কমলাবাড়ি ও গোড়োল ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে গণনায় অনিয়ম শুরু হয়। এ সময় তার নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত প্রার্থীর দাবি, কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল শিটে এজেন্টদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর নেওয়া হলেও পরে তাদের স্বাক্ষরবিহীন কপি সরবরাহ করা হয়। এমনকি গণনার সময় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ব্যালট অন্য প্রতীকের বান্ডিলে ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
ফিরোজ হায়দার বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পুনরায় ভোট গণনা করা হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই আসনের সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা অত্যন্ত জরুরি।”
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ভোটের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আসন পরিচালক হাবিবুর রহমান, সাবেক জেলা আমির আবদুল বাতেন, জেলা জামায়াতের সদস্য সচিব আলাউল ইসলাম ফাতেমী, আদিতমারী উপজেলা থানা আমির হায়দার আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।