সৌদি দুর্ঘটনায় পরিবার হারানো শিশু ফাইজা আক্তার দেশে ফিরেছে
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫৫
সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও দুই বোন হারানো ১০ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশে পৌঁছেছে। ফাইজা বাড়িতে ফিরলেও এখনো জানে না তার মা-বাবা ও বোনরা মারা গেছেন। সে বিশ্বাস করছে, তারা তার মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং শিগগিরই বাড়িতে ফিরে ঈদ করবে।
ফাইজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নতুন জামা পরে তারা বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাবে এবং আনন্দ করবে। তবে মানসিকভাবে পুরো পরিবার ভেঙে পড়ায় পরিবারের লোকজন কাউকে ভিডিও বা ছবি তোলার অনুমতি দেয়নি।
গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে মামা তানভীর হোসেন ফাইজাকে নিয়ে দেশে আসেন। আজ ভোরে তারা রামগঞ্জ উপজেলা, ভাটরা ইউনিয়ন, নলচরা গ্রামে পৌঁছান। ফাইজা ওই গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারিবাড়ির নিহত সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজানের মেজ মেয়ে।
ফাইজা রামগঞ্জ ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–এর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পাঁচ দিন জেদ্দার কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে তিনি মামার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন।
ফাইজার মামা তানভীর হোসেন জানিয়েছেন, ফাইজা এখনও জানে না তার মা-বাবা ও দুই বোন মারা গেছেন। সে বিশ্বাস করছে তারা হাসপাতালে তার মতো চিকিৎসা নিচ্ছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। নিহতদের মরদেহ এখনও জেদ্দা হাসপাতালে মর্গে রয়েছে এবং দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ফাইজার বাবা মিজানুর রহমান মিজান (৪০), মা ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), বড় বোন মেহের আফরোজ (১৩), ছোট বোন সুবহা আক্তার (১.৫) এবং গাড়িচালক মো. জিলানী বাবর (৩০)। তারা ওমরাহ হজ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে দেশে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।
ফাইজা বর্তমানে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়লেও পরিবারের পাশে থাকায় ধীরে ধীরে সচল হয়ে উঠছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।